রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
রোগী হয়রানি বন্ধে স্বাস্থ্যখাতে প্রথমবার এত কড়া নির্দেশ!
অনলাইন ডেস্ক
রোগীর চিকিৎসায় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও অযথা পরীক্ষা নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন যুগের সূচনা ঘটাতে পারে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের পেশকৃত প্রস্তাবনায় এই গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে।
প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি চিকিৎসক সরাসরি বা ঘুরিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগী পাঠাতে পারবেন না। ওষুধ কোম্পানির লোগো সম্বলিত প্যাডে প্রেসক্রিপশন লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া জোর দেওয়া হয়েছে রোগীর সুরক্ষায়—অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। অপারেশন থিয়েটারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও এসেছে। সার্জারির প্রতিটি ধাপ শল্যদলের প্রধানকে উচ্চ স্বরে বলতে হবে এবং তা রেকর্ড রাখতে হবে। সব ধরনের সেবার রেকর্ড রাখতে হবে কঠোরভাবে।
কমিশন বলেছে, রোগী চাইলে যৌক্তিক ফি দিয়ে চিকিৎসার সমস্ত রেকর্ড পেতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে এবং এ চুক্তি যেন কার্যকরভাবে পরিচালনা হয়, সেজন্য জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ক্লিনিক্যাল সেবায় দুর্ঘটনা-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা চালু করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার ১২ সদস্যের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান।
গত সোমবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের সদস্যরা তাদের সুপারিশমালা পেশ করেন। প্রতিবেদনের তৃতীয় অধ্যায়ের ৯২তম পৃষ্ঠায় ‘সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা’ অংশে এসব যুগান্তকারী প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।